নিজস্ব সংবাদদাতা, মহিষাদল: ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিধানসভা নির্বাচনের এখনও ঢের দেরি। তবে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ শাসকদল। তাই ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার অনেক আগেই জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়ক তিলক কুম…
নিজস্ব সংবাদদাতা, মহিষাদল: ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিধানসভা নির্বাচনের এখনও ঢের দেরি। তবে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ শাসকদল। তাই ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার অনেক আগেই জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী। শনিবার মহিষাদলের মনসারথান এলাকায় গিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি জয়ের রণকৌশল সাজাতে দেখা গেল তাঁকে।
এ দিন মনসারথান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে কর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে আড্ডা দেন ‘ভূমিপুত্র’ বিধায়ক। তবে এই আড্ডার মেজাজ ছিল পুরোদস্তুর রাজনৈতিক। এলাকায় দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে কি না, কর্মীদের মনোবল কেমন রয়েছে— সবকিছুরই খুঁটিনাটি খোঁজ নেন তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও মন দিয়ে শোনেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, গোটা বিধানসভা কেন্দ্রটিকেই এখন ‘পাখির চোখ’ করছেন তিলকবাবু।
মহিষাদল বিধানসভার রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। এলাকাটি মূলত ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও ২০০৬ সালে এখানে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএমের তমালিকা পন্ডা শেঠ। পরবর্তীকালে অবশ্য তৃণমূলের সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার সেই আসন পুনরুদ্ধার করেন।
২০২১ সালে প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান তিলক কুমার চক্রবর্তী। সেবার ১,০১,৯৮৬টি ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বিশ্বনাথ ব্যানার্জী পেয়েছিলেন ৯৯,৬০০টি ভোট। মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে লড়াই হওয়ায় এবারের নির্বাচন যে আরও কঠিন হতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট।
এবারের নির্বাচনে মহিষাদল-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সবকটি আসনেই বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই হবে বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। তবে শাসকদল সেই দাবি উড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী। তৃণমূল শিবিরের দাবি:
- উন্নয়নই হাতিয়ার: রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন, যা ভোটে বাড়তি মাইলেজ দেবে।
- কেন্দ্রের বঞ্চনা: ১০০ দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সরব ঘাসফুল শিবির।
- মূল্যবৃদ্ধি: রান্নার গ্যাস, মোবাইল রিচার্জ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করতে চাইছে তারা।
সব মিলিয়ে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও মহিষাদলের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিধায়কের এই আগাম সক্রিয়তা কি শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রতিফলন ঘটাবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
No comments