তমলুক (Purbamedinipur.in) : আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর চিকিৎসকদের 'ম্যাজিক' টাচে পুনর্জন্ম হলো এক ব্যক্তির। গলার নলি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক প্রৌঢ়কে যমরাজার দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ …
তমলুক (Purbamedinipur.in) : আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর চিকিৎসকদের 'ম্যাজিক' টাচে পুনর্জন্ম হলো এক ব্যক্তির। গলার নলি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক প্রৌঢ়কে যমরাজার দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। তিন ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস ও জটিল অপারেশনের মাধ্যমে ইতিহাস গড়লেন তমলুকের চিকিৎসকরা।
ভূপতিনগর থানার ধাইপুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা ভক্তিপদ মন্ডল। পরিবার সূত্রে খবর, বছর তিনেক আগে এক মহিলার কাছে প্রতারিত হয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খোয়ান তিনি। তারপর থেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদের চরম পর্যায় থেকেই সম্প্রতি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গলার নলি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত স্থানান্তরিত করা হয় তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজে। প্রৌঢ়ের গলার গুরুত্বপূর্ণ রক্তবাহী ধমনী এবং শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কলকাতায় রেফার করার মতো পরিস্থিতি বা সময়—কোনোটাই ছিল না। পথেই মৃত্যু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ বোর্ড গঠন করা হয়। হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ সৌমিক সাহার নেতৃত্বে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। টানা ৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচার।গলার নলি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা কৃত্রিম শ্বাসনালী তৈরি করে তা প্রতিস্থাপন করেন। সার্জারি টিমের পাশাপাশি সিসিইউ (CCU) টিমের নিখুঁত সাপোর্টে অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে।
"পেশেন্ট অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসেছিলেন। শ্বাসনালী ও ধমনী দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সময় নষ্ট না করে আমরা কৃত্রিম শ্বাসনালী বানিয়ে সার্জারি করি। ঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসায় এবং সিসিইউ টিমের তৎপরতায় আমরা ওঁকে বাঁচাতে পেরেছি।"
— ডাঃ সৌমিক সাহা (অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ইএনটি বিভাগ)
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারটি হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি হাসপাতালের এই সাফল্যে খুশি রোগীর পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। বর্তমানে রোগী স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজের এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল, পরিকাঠামো আর সদিচ্ছা থাকলে জেলা স্তরেও বিশ্বমানের চিকিৎসা সম্ভব।

No comments