Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Popular Posts

Breaking News:

latest

,Mahishadal : মহিষাদলের মাঠে স্মৃতির কোলাজ: বয়সের হিসেব ভুলে ব্যাট-বলে মাতলেন ‘নবীন’ প্রবীণরা !

নিজস্ব সংবাদদাতা, মহিষাদল: পক্ককেশ, চোখে চশমা, কারও বা শরীরের গতিতে থাবা বসিয়েছে বার্ধক্য। কিন্তু রবিবাসরীয় সকালে মহিষাদলের খেলার মাঠে তার লেশমাত্র দেখা গেল না। ৮০ ছুঁইছুঁই অজয় ব্যানার্জি কিংবা ৭০-এর কোঠায় পা রাখা বারীন দাসদের দে…

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, মহিষাদল: পক্ককেশ, চোখে চশমা, কারও বা শরীরের গতিতে থাবা বসিয়েছে বার্ধক্য। কিন্তু রবিবাসরীয় সকালে মহিষাদলের খেলার মাঠে তার লেশমাত্র দেখা গেল না। ৮০ ছুঁইছুঁই অজয় ব্যানার্জি কিংবা ৭০-এর কোঠায় পা রাখা বারীন দাসদের দেখে মনে হচ্ছিল, সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে কয়েক দশক আগে। স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে মহিষাদল দেখল এক অনন্য ‘রিইউনিয়ন’। ‘মহিষাদল সকলের কথা’-র উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রাক্তনী ক্রিকেট ম্যাচ ও আড্ডা ঘিরে শহরজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হলো।

​মাঠের দাপুটে ফুটবলার হোক বা তুখোড় ক্রিকেটার— একসময় যাঁরা মহিষাদলের ক্রীড়াঙ্গন মাতিয়ে রাখতেন, আজ তাঁরাই আবার ফিরলেন চেনা ঘাসে। সৌজন্যে, প্রাক্তনী ক্রিকেট ম্যাচ এবং বনভোজন। অজয়-সঞ্জয়-বিজয় ব্যানার্জি থেকে শুরু করে অসীম জানা, পুলক-হীরক-দীপক বাগ বা অচিন্ত্যদা— মাঠের লড়াই ভুলে সবাই তখন মেতে উঠেছেন পুরনো দিনের গল্পে।

​খেলার মাঝেই চলল দেদার আড্ডা। বিভাস-পলাশ বাগ কিংবা সঞ্জীব চৌধুরী (ভোঁদুদা)-দের মুখে ফিরল সেই পুরনো দিনের টানটান উত্তেজনার মুহূর্তগুলো। মাঠের এক কোণে জটলা পাকিয়ে হাসাহাসি করতে দেখা গেল আলোক সান্যাল, বিদ্যুৎ বেরা ও অনন্ত সামন্তদের। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ ঘোষ (পিন্টু), আরিফ, আবু, কামাল, সুমন সাঁতরা এবং দুই ‘মানিক’— বিপ্লব চক্রবর্তী ও তারক সামন্ত।

​প্রজন্মের এই মেলবন্ধন নিয়ে এক প্রবীণ খেলোয়াড় আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন,

​"বয়সটা তো শুধু সংখ্যা মাত্র। আজ মাঠে নেমে মনে হচ্ছিল সেই কিশোর বয়সে ফিরে গিয়েছি। এই আনন্দ কোনো ট্রফিতে পাওয়া সম্ভব নয়।"

​এ দিনের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি। একদিকে যেমন প্রীতম দাস, কুহক-রূপক চক্রবর্তীরা নবীনদের উৎসাহ দিলেন, তেমনই ভবেশ দে, দেবাশীষ মাইতি, তপন জানা এবং রঞ্জন পানিগ্রাহীরা ভাগ করে নিলেন মাঠের অভিজ্ঞতা। চিন্ময় গোস্বামী, সঞ্জিত দত্ত (গবলু), চন্দন, বিধান, শুভাশিষ হান্ডা এবং আশীষ চ্যাটার্জিদের উপস্থিতি যেন মাঠকে একখণ্ড মহিষাদলের ইতিহাসে পরিণত করেছিল।

​শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, ছিল পেটপুজোর এলাহি আয়োজনও। আসগর, সুমিত-স্বরুপ থেকে শুরু করে রাজীব ধাড়া, শশাঙ্ক মাজি, প্রদীপ্ত ও প্রদীপদের তদারকিতে বনভোজন হয়ে উঠল উৎসবের মতো। নির্মল, শ্যাম, নীলমাধব, বাপি, বৃন্দাবন এবং মিঠুনদের কলতানে সারাদিনই মুখরিত ছিল প্রাঙ্গণ।

​দিনের শেষে মাঠ ছাড়ার সময় প্রত্যেকের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। হারের গ্লানি নেই, নেই জেতার অহংকার— আছে শুধু একরাশ ভালোবাসা আর শিকড়ে ফেরার টান। মহিষাদলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল, মাঠের আবেগ কখনো ফুরিয়ে যায় না, তা কেবল জমা থাকে সময়ের পাতায়।

আরও কিছু রঙিন মুহুর্ত আপনাদের জন্য :









No comments