নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: আর্থিক অনটন যেন মেধার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই ফের বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রবিবার তমলুকের রাজকুমারী সান্ত্বনাময়ী গার্লস হাই স্কুলে ঘটা করে উদ্বোধন হলো রাজ্য সরকারের ‘যোগ্যশ্রী’ প্রকল্পের …
নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: আর্থিক অনটন যেন মেধার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই ফের বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রবিবার তমলুকের রাজকুমারী সান্ত্বনাময়ী গার্লস হাই স্কুলে ঘটা করে উদ্বোধন হলো রাজ্য সরকারের ‘যোগ্যশ্রী’ প্রকল্পের অন্তর্গত নিট (NEET), জেইই (JEE) এবং ডব্লিউবিজেইই (WBJEE) ২০২৭-এর প্রাক-পরীক্ষা প্রশিক্ষণ শিবিরের। মূলত দুস্থ, মেধাবী এবং পিছিয়ে পড়া পরিবারের পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন সফল করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তাম্রলিপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা, ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা আদক, প্রশান্ত পাত্র এবং সেন্টার ইনচার্জ তিথি শীট পাড়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী বলেন, “রাজ্য সরকারের এটি এক অনবদ্য প্রয়াস। অনেক সময় আর্থিক সংগতির অভাবে গ্রামের মেধাবী পড়ুয়ারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ পায় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ‘যোগ্যশ্রী’ প্রকল্প সেই অভাব দূর করবে। শুধু বিনামূল্যে প্রশিক্ষণই নয়, কোর্স শেষে পড়ুয়ারা স্টাইপেন্ডও পাবে। ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে প্রকৃত অর্থে মানুষের মতো মানুষ হয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, এটাই আমাদের কাম্য।”
এনসিএসএম (NCSM) ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে পঠনপাঠনের গুণমানের ওপর। সেন্টার ইনচার্জের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- ক্লাসের সময়সূচী: প্রতি শনি ও রবিবার ৪ ঘণ্টা করে ক্লাস নেওয়া হবে।
- পাঠ্যক্রম: পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং জীববিদ্যা—এই চারটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। মোট ৩২০ ঘণ্টার অফলাইন ক্লাস এবং ১০টি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্টের ব্যবস্থা থাকছে।
- অনলাইন সুবিধা: অফলাইনের পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে অনলাইন লাইভ ক্লাস, রিভিশন ক্লাস এবং ডাউট ক্লিয়ারিং সেশনের সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা।
- আর্থিক সুবিধা: যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি সন্তোষজনক থাকবে, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাসে ৩০০ টাকা হারে ১০ মাসে মোট ৩,০০০ টাকা স্টাইপেন্ড বা ভাতা প্রদান করা হবে।
এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে, ক্লাসের সেরা পারফরমার বা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১০ দিনের একটি বিশেষ ‘রেসিডেন্সিয়াল কোচিং ক্যাম্প’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষার ফর্ম ফিল-আপ থেকে শুরু করে অনলাইন কাউন্সিলিং—সবক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের পাশে থাকবে এই সংস্থা।
সব মিলিয়ে, পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের স্বপ্নকে ডানা মেলাই এখন ‘যোগ্যশ্রী’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ দিনের অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।













No comments