নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম: সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি। অধিকারীর গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রামে (Nandigram) ফের ফুটল ঘাসফুল। রবিবার নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রানীচক সমবায় সমিতির হাইভোল্টেজ নির্বাচনে…
নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম: সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি। অধিকারীর গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রামে (Nandigram) ফের ফুটল ঘাসফুল। রবিবার নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রানীচক সমবায় সমিতির হাইভোল্টেজ নির্বাচনে বিজেপিকে ধুয়েমুছে সাফ করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস।
সমবায়ের ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টিতেই জয়জয়কার জোড়াফুল শিবিরের। সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি আটকে গেল মাত্র ১৮টিতে। এই জয় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে যে বাড়তি অক্সিজেন দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।
সমবায় ভোটকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই রানীচক এলাকায় ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে এই জয় যে আসবে তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। কারণ, বিরোধী শিবির প্রার্থী দিতে না পারায় ৫টি আসনে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। বাকি ৪০টি আসনেই এদিন লড়াই ছিল সমানে সমানে।
ভোটারদের ভিড় আর পুলিশের কড়াকড়ির মধ্যেই মানুষ তাঁদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ শিবির শুরু হওয়ার পর থেকেই মানুষের আস্থা ফিরছে শাসকদলের ওপর।
তবে এই জয় সহজ পথে আসেনি। অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই এলাকা উত্তপ্ত করে তুলেছিল গেরুয়া আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শনিবার রাতে তৃণমূল প্রার্থীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। বহিরাগতরা হামলা চালায় বলে দাবি তৃণমূলের। হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মীর মাথা ফাটে, হাতও ভেঙে যায়। অন্যদিকে হামলায় বিজেপির কয়েকজন মহিলাও জখম বলে পাল্টা দাবী গেরুয়া শিবিরের।
তবে সব কিছুকে উপেক্ষা করেই এদিন ভোটবাক্সে জবাব দিয়েছেন রানীচকের মানুষ। জয়ের খবর আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।
হামলার ঘটনা নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, তৃণমূল রাতের অন্ধকারে মহিলাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিজেপি নেতা প্রলয় পালের অভিযোগ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভয় দেখিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপির দাদাগিরি আর পছন্দ করছেন না সাধারণ ভোটাররা।
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, সংলগ্ন ভগবানপুর এলাকাতেও এদিন জয়ের হাসি হেসেছে তৃণমূল। সেখানে ১৭টি আসনের সবকটিতেই জিতেছে ঘাসফুল শিবির। এর আগে গত রবিবার আমদাবাদ সমবায় নির্বাচনেও ১২-০ ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়েছিল তৃণমূল। পর পর এই জয় প্রমাণ দিচ্ছে, পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির ভিত টলমল করছে।
নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি রবিন জানার হুঙ্কার, “আজ মানুষ ভোটের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে। আগামী বিধানসভায় এই নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে সাফ করে দেবে জনতা।”
No comments