নিজস্ব প্রতিবেদন, হলদিয়া : উন্নয়নের চাকা যত গড়াতে শুরু করেছে, ততই ফিকে হচ্ছে সবুজের রঙ। হলদিয়া-মেছেদা রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের কর্মযজ্ঞে এখন কার্যত ‘বলি’ হতে বসেছে শতাব্দী প্রাচীন কয়েকশো বৃক্ষ। রাস্তার দু’ধারে যে মহীরুহরা দশকের পর …
নিজস্ব প্রতিবেদন, হলদিয়া : উন্নয়নের চাকা যত গড়াতে শুরু করেছে, ততই ফিকে হচ্ছে সবুজের রঙ। হলদিয়া-মেছেদা রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের কর্মযজ্ঞে এখন কার্যত ‘বলি’ হতে বসেছে শতাব্দী প্রাচীন কয়েকশো বৃক্ষ। রাস্তার দু’ধারে যে মহীরুহরা দশকের পর দশক ধরে পথচারীদের ছায়া দিয়েছে, আজ উন্নয়নের দোহাই দিয়ে তাদের গায়েই পড়ছে কুড়ুলের ঘা। জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে— এই কি প্রকৃত উন্নয়ন? যেখানে বর্তমানকে সাজাতে গিয়ে ভবিষ্যতের অক্সিজেনকেই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?
রাস্তা চওড়া হওয়া প্রয়োজন, এ নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু সেই কাজের জন্য যেভাবে নির্বিচারে বৃক্ষছেদন চলছে, তাকে ‘নির্দয়’ বললেও কম বলা হয়। পরিবেশবিদদের মতে, একটি শতাব্দী প্রাচীন গাছ যে পরিমাণ বাস্তুসংস্থান রক্ষা করে, কয়েকশ’ নতুন চারা গাছ রোপণ করলেও সেই ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন প্রতিবাদের ভাষায় সরব। নেটিজেনদের ক্ষোভ— বন দপ্তর বা রাজ্য সড়ক দপ্তর কি বিকল্প কোনও পরিকল্পনার কথা ভেবেছিল?
রাস্তার দু’ধারে সরকারি জায়গা বছরের পর বছর ধরে বেপরোয়াভাবে দখল হয়ে পড়ে থাকে। সেই বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদে প্রশাসনের যতটা তৎপরতা দেখা যায়, তার সিকিভাগও দেখা যায় না গাছ বাঁচানোর পরিকল্পনায়।
- গাছ প্রতিস্থাপন (Tree Transplantation): আধুনিক প্রযুক্তিতে গাছ না কেটেই অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে কি খরচের দোহাই দিয়ে সেই পথে হাঁটল না প্রশাসন?
- অপরিকল্পিত রোপণ: অতীতেও দেখা গিয়েছে, নামমাত্র বৃক্ষরোপণ করা হয় যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারা যায়।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন চরম বিভ্রান্তি। উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বললে জুটছে ‘উন্নয়ন বিরোধী’ তকমা। অথচ এই শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলো তো কেবল কাঠ নয়, এগুলো এলাকার ইতিহাস ও পরিবেশের রক্ষাকবচ। প্রতিবাদ কার কাছে জানানো হবে, তা-ও অনেকের কাছে অস্পষ্ট।
"রাস্তা চওড়া হোক, কিন্তু তা যেন প্রকৃতির বুক চিরে না হয়। পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত যাতে উন্নয়ন এবং পরিবেশের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় থাকে।" — এই দাবিই এখন তমলুক থেকে হলদিয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।
এখনও বহু গাছ কাটার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সময় এসেছে ভাবার— আমরা কি আগামী প্রজন্মের জন্য কেবল কংক্রিটের রাস্তা রেখে যাব, নাকি কিছুটা অক্সিজেনও?
মহিষাদল এলাকার আরও কিছু ছবি আপনাদের জন্য :






No comments