NewzBangla, Contai :কাঁথি’র আদালত চত্বরে গুলি ও বোমা বর্ষণ করে পলায়নের চেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাতদুষ্কৃতীকর্ণবেরাএবংতারসহযোগীসেকমুন্নাকে৭বছরেরসশ্রমকারাদণ্ডেরনির্দেশদিল কাঁথি আদালত।জেলাপুলিশসুপারমিতুনকুমারদেজানিয়েছেন, উপযুক্ততদন্তওপ্রম…
NewzBangla, Contai : কাঁথি’র আদালত
চত্বরে গুলি ও বোমা বর্ষণ করে পলায়নের চেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী কর্ণ বেরা এবং তার সহযোগী সেক মুন্নাকে ৭ বছরের সশ্রম
কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কাঁথি আদালত। জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, উপযুক্ত
তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই
সম্প্রতি আদালত
এই রায় দিয়েছে। আর এই ঘটনা প্রসঙ্গেই মনে
করিয়ে দিল কর্ণ বেরার জেল পালানোর সেই রোমহর্ষক মুহূর্ত।
আর পাঁচটা দিনের মতোই
স্বাভাবিক একটা দিন ছিল ২০১৮ সালের ৪ঠা অক্টোবর। একাধিক ব্যাঙ্ক ডাকাতিতে যুক্ত
এবং মহিষাদলের পুলিশ কনস্টেবল নবকুমার হাইত
খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কর্ণ বেরাকে ওই দিন তোলা হচ্ছিল কাঁথি মহকুমা আদালতে।
সেই সময়ই জেল পালানোর নিখুঁত ছক কষেছিল কর্ণ।
আচমকাই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে জিআরও সুশান্ত রানাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে কর্ণ। এরপর বোমা ছুড়তে ছুড়তে পুলিসের হাত ফস্কে বেরিয়ে যায় সে। কিছু দূরেই দুই যুবক বাইক নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। ওই দুই যুবক তাকে বাইকে বসিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। সেদিনের গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল কাঁথি আদালত চত্বরে।
আদালত থেকে বেরোনোর পথে এক দম্পতি বাইক
নিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে বাইক ছিনতাই করে চম্পট দেয় কর্ণ। যদিও সেই দাপট বেশিক্ষণ টেকেনি। যদিও কয়েক ঘন্টার চেষ্টায়
আবারও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কুখ্যাত দুষ্কৃতী কর্ণ। কর্ণ ধরা পড়তেই তাঁর সহযোগীদের
বিরুদ্ধে কাঁথি থানায়
ফোন করে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার স্পর্ধাও দেখানো হয়েছিল বলে খবর।
কে
এই কর্ণ বেরা ?
কাঁথির বাসিন্দা কর্ন কুখ্যাত ডাকাত। কয়েক বছর আগে মহিষাদলে পুলিস কনস্টেবল নবকুমার মাইতিকে খুন করে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও একাধিক ডাকাতি ও খুনের অভিযোগ
রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৬-তে মহিষাদল
থানার
কাপাসেড়িয়া
এলাকায়
টহল
দেওয়ার
সময়
কর্ণ’র ছোঁড়া গুলিতে কনস্টেবল নবকুমার হাইত শহীদ হন। নবকুমারকে
খুন করে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরে গা ঢাকা দেয় কর্ণ।
পরে মহিষাদল
থানার পুলিশ তাঁকে সোনারপুর থেকে গ্রেফতার করে।
তখন থেকেই কাঁথি জেলে ছিল কর্ন। এর আগেও তিন
বার জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কর্ন। কিন্তু প্রতিবারই পুলিসের কাছে ধরা পড়ে যায় সে। এই পুলিশ খুনের মামলায়
ইতিমধ্যেই তার
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেদিন আদালত চত্বরে বোমাবাজি করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর ঘটনাতেই নতুন করে কর্ণ ও তাঁর সঙ্গীর
বিরুদ্ধে সাজা
ঘোষণা করল কাঁথি আদালত।
পূর্ব মেদিনীপুরের
পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, “জেল
থেকে
পালানোর এই
মামলায় যথাযথ
সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সম্প্রতি সাজা
ঘোষণা
করা
হয়েছে।“ পুলিশের দাবি,
কর্ণের
মতো
দুষ্কৃতীদের এই
সাজা
সমাজে
কড়া
বার্তা
দেবে।
আগে
থেকেই
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কর্ণের
ঝুলিতে
এবার
যুক্ত
হলো
আরও
৭
বছরের
সশ্রম
কারাদণ্ড।
No comments